বাফার দ্রবণ কাকে বলে? বাফার দ্রবণের প্রকারভেদ এবং প্রস্তুতি
এখানে নিচে বাফার দ্রবণ কাকে বলে, বাফার দ্রবণের প্রকারভেদ, বাফার দ্রবণ প্রস্তুতি, বাফার দ্রবণ চেনার উপায়, বাফার দ্রবণ এর উদাহরণ সহ বিস্তারিত দেওয়া হলো।
নিরপেক্ষ পানিতে ২/১ ফোঁটা সবল এসিড বা ক্ষার যোগ করলে দ্রবণের pH এর যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু কিন্তু অনেক রাসায়নিক শিল্প ও জীববিদ্যা সম্পর্কীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া আছে যেখানে pH স্থির রাখা আবশ্যক। যেমন মানুষের রক্তের pH হলো 7.4 । অধিক অম্লজাতীয় খাদ্য গ্রহণ বা ওষুধ গ্রহণের কারণে রক্তের pH মান স্বাভাবিক মান থেকে 0.5 এর বেশি পরিবর্তিত হলে জীবন সংকটাপন্ন হয়। তাই সব ওষুধ ও ইনজেকশন প্রস্তুতিতে pH এর গুরুত্ব অধিক। তাই এসব ক্ষেত্রে এমন বিশেষ দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় যার মধ্যে অল্প পরিমাণে সবল এসিড বা ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে মিশ্রণের pH এর তেমন পরিবর্তন ঘটে না। এরূপ বিশেষ প্রকার দ্রবণকে বাফার দ্রবণ বলে।
বাফার দ্রবণ কাকে বলে
যে দ্রবণে সামান্য পরিমাণ সবল এসিড বা ক্ষার দ্রবণ যোগ করার পরও দ্রবণের pH এর মান বিশেষ পরিবর্তন হয় না, প্রায় স্থির থাকে; তাকে বাফার দ্রবণ বলে। বাফার দ্রবণের নিজস্ব pH স্থির রাখার ক্ষমতা থাকে। বাফার (buffer) শব্দের অর্থ প্রতিরোধ করা বা resist করা।
বাফার দ্রবণের প্রকারভেদ
বাফার দ্রবণকে অম্লীয় বাফার দ্রবণ ও ক্ষারীয় বাফার দ্রবণ এই দু’শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। অম্লীয় বাফার দ্রবণঃ দূর্বল এসিড দ্রবণ ও এর অনুবন্ধী ক্ষারকের মিশ্র-দ্রবণকে অম্লীয় বাফার দ্রবণ বলে।
২। ক্ষারীয় বাফার দ্রবণঃ দূর্বল ক্ষারক দ্রবণ ও এর অনুবন্ধী এসিডের মিশ্র-দ্রবণকে ক্ষারীয় বাফার দ্রবণ বলে।
বাফার দ্রবণ প্রস্তুতি
বাফার দ্রবণের প্রস্তুতি নিচে দেওয়া হলো-
১। অম্লীয় বাফার দ্রবণগুলো সাধারণত মৃদু এসিড ও ঐ এসিডের সাথে তীব্র ক্ষার সহযোগে সৃষ্ট লবণ হতে প্রস্তুত করা হয়। যথাঃ CH3COOH ও CH3COONa দ্রবণের মিশ্রণ।
২। ক্ষারীয় বাফার দ্রবণগুলো মৃদু ক্ষারক ও ঐ ক্ষারকের সাথে তীব্র এসিড সহযোগে সৃষ্ট লবণ হতে প্রস্তুত করা হয়। যথাঃ NH4OH ও NH4Cl দ্রবণের মিশ্রণ।
হেন্ডারসন হ্যাসেলবাখ সমীকরণ প্রয়োগ করে বিভিন্ন pH এর বাফার দ্রবণ প্রস্তুত করা যায়।